ভারতের শেয়ার বাজারে শুক্রবার বড়সড় ধস নামল। দুর্বল বর্ষার পূর্বাভাস এবং আমেরিকা-ইরান সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তার জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা যায় বাজারে। দিনের শেষে সেনসেক্স এক হাজার পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়, অন্য দিকে নিফটি নেমে যায় ২৩,৬০০-এর নীচে।
দিনের শেষে এসঅ্যান্ডপি বিএসই সেনসেক্স ১,০৯২.০৬ পয়েন্ট বা ১.৪৪ শতাংশ পড়ে ৭৪,৭৭৫.৭৪-এ বন্ধ হয়। অন্য দিকে এনএসই নিফটি৫০ সূচক ৩৫৯.৪০ পয়েন্ট বা ১.৫০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৩,৫৪৭.৭৫-এ।
বাজারে চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ ছিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস। সংস্থা জানিয়েছে, এ বছরের বর্ষা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (এলপিএ) মাত্র ৯০ শতাংশ হতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বৃহস্পতিবারের বিক্রি ছিল প্রায় সব ক্ষেত্রেই। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক ১.৩৩ শতাংশ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ০.৮৫ শতাংশ পড়ে যায়। বাজারে ভয় ও অনিশ্চয়তার সূচক হিসেবে পরিচিত ইন্ডিয়া ভিক্স ৮.০২ শতাংশ বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
ক্ষেত্রভিত্তিক সূচকগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে নিফটি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, যা ২.৪৭ শতাংশ কমেছে। নিফটি মেটাল ২.০২ শতাংশ, নিফটি অটো ১.৯৬ শতাংশ, নিফটি হেলথকেয়ার ১.৮৬ শতাংশ এবং নিফটি কনজিউমার ডিউরেবলস ১.৬২ শতাংশ পড়ে যায়। তবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে কেনাকাটা চলতে থাকায় নিফটি আইটি সূচক ০.৬০ শতাংশ বেড়ে একমাত্র লাভে থাকা প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
সেনসেক্সের শেয়ারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে টেক মহিন্দ্রা। এছাড়া এইচসিএল টেকনোলজিস এবং লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্য দিকে পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন, ইন্ডিগো, এনটিপিসি, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং টাটা স্টিল বড় ধাক্কা খেয়েছে।
তবে শেয়ার বাজারে ধস নামলেও ভারতীয় মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকা ০.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ৯৫ টাকায় বন্ধ হয়েছে, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান।
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের গবেষণা প্রধান বিনোদ নায়ার বলেন, দুর্বল বর্ষার সম্ভাবনা এবং এল নিনো পরিস্থিতির আশঙ্কা খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বন্ড ইল্ড কমায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তাঁর মতে, এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি এবং জিডিপি তথ্য প্রকাশের দিকে।
এ দিন আন্তর্জাতিক বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ১.৫২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯২.২৯ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড ১.৪৭ শতাংশ পড়ে ৮৭.৫৯ ডলারে নেমেছে।