দীপাবলির আগে শেয়ারবাজারে দারুণ উত্থান। মাত্র দু’দিনে ২৪০০ পয়েন্টেরও বেশি বাড়ল সূচক। সেনসেক্স ও নিফটি, দুই সূচকেই প্রায় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোয় স্বস্তিতে লগ্নিকারীরা। উৎসবের মরসুমে বিনিয়োগকারীদের পকেটেও ফিরেছে লক্ষ্মীলাভের আশা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমাই এই উত্থানের অন্যতম বড় কারণ।
ভারতের জ্বালানির চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে আমদানি খরচ কমার সম্ভাবনা থাকে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতিতে। পাশাপাশি জ্বালানি এবং পরিবহণের খরচ কমলে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদন ব্যয়ও কমতে পারে। ফলে সংস্থাগুলির মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই কারণেই তেলের দামের পতনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজারের উত্থানের পিছনে আরও একটি কারণ দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর বা এলটিসিজি নিয়ে অনুকূল প্রত্যাশা। করের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তার জেরেই বাজারে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজারে ফিরে আসাও সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা নিয়েছে। গত সোমবার, ২ নভেম্বর বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলি মোট ৩১১৭.৯৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৪০৬.৬১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বলে বাজার সূত্রে খবর।
এফএমসিজি, আর্থিক পরিষেবা এবং আবাসন ক্ষেত্রের শেয়ারে দর বৃদ্ধির জেরেও চাঙ্গা হয়েছে বাজার। সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার মধ্যে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, ভারতী এয়ারটেল এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে। অন্যদিকে, পাওয়ার গ্রিড, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং ইনফোসিসের শেয়ারে তেমন উত্থান দেখা যায়নি। ফলে দীপাবলির আগে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি লগ্নিকারীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।