ফের বিশ্ববাজারে ধস

প্রতীকী চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, দুর্বল আন্তর্জাতিক বাজার এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রির চাপে সোমবার বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। দিনের লেনদেনে সেনসেক্স ও নিফটি—দুই প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্য পতনের মুখে পড়ে।

দুপুর আড়াইটে নাগাদ বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) সেনসেক্স ৬৩৫.৯৪ পয়েন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ নিচে নেমে ৭৩,৬০৭.৪১-এ পৌঁছায়। অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নিফটি ৫০ সূচক ২১৩.২০ পয়েন্ট বা ০.৯১ শতাংশ পতন ঘটিয়ে ২৩,১৫৩.৫০-এ লেনদেন করছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নতুন করে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান সম্প্রতি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একসময় ৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৭.১৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায়। এর ফলে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি যে এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমেছে।

খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে ফার্মা ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিক্রির চাপ দেখা যায়। বিশেষ করে আর্থিক পরিষেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফিনান্সিয়াল স্টকগুলির সূচক প্রায় ০.৯ শতাংশ এবং আইটি সূচক ১.৭ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। একইসঙ্গে নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং স্মলক্যাপ ১০০ সূচকও প্রায় ১ শতাংশ করে পতন রেকর্ড করে।

ব্যক্তিগত শেয়ারের ক্ষেত্রে ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন বা ইন্ডিগোর শেয়ার প্রায় ২.৮ শতাংশ পড়ে যায়। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান সংঘাতজনিত সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার কারণে সংস্থাটি চলতি বছরে নির্ধারিত নয়টি এয়ারবাস A321XLR বিমান সম্পূর্ণভাবে নাও পেতে পারে। অন্যদিকে, ইএমএস সংস্থার শেয়ার ১৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। সংস্থাটি ১০৩ কোটি টাকার একটি বড় অর্ডার পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এআই-নির্ভর প্রযুক্তি শেয়ারের সাম্প্রতিক উত্থান ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এশিয়ার প্রায় সব বড় বাজারেই সোমবার বিক্রির চাপ দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি, জাপানের নিক্কেই, চিনের সাংহাই কম্পোজিট এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী ছিল। এর আগে শুক্রবার মার্কিন বাজারেও বড় পতন দেখা গিয়েছিল, যা সোমবার ভারতীয় বাজারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।