টানা রক্তক্ষরণের ধাক্কা সামলে সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেই জোরদার প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিল ভারতের শেয়ার বাজার (Indian stock market)। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি সংক্রান্ত ঘোষণার (RBI monetary policy) ঠিক মুখে মঙ্গলবার বড়সড় উত্থান দেখল দালাল স্ট্রিট। ৬৮৫ পয়েন্টের বেশি লাফিয়ে ৭৩ হাজারের গণ্ডি টপকে গেল বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স (Sensex)। অন্য দিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি-ও (Nifty) প্রায় ২২০ পয়েন্ট বেড়ে থিতু হল ২২,৭৭৬ স্তরে। সামগ্রিকতার নিরিখে এই তেজি আবহেই ফের একবার ২৩ হাজারের প্রাচীর টপকানোর পথ খুঁজছেন লগ্নিকারীরা।
হঠাৎ কেন চাঙ্গা?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মঙ্গলবারের এই নজরকাড়া উত্থানের পিছনে কাজ করেছে কয়েকটি ইতিবাচক অনুঘটক। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আসন্ন ঋণনীতি বৈঠক (monetary policy meeting)। রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হবে কি না এবং দেশের আর্থিক বৃদ্ধি (GDP growth) ও মূল্যবৃদ্ধির (inflation) পূর্বাভাস নিয়ে শীর্ষ ব্যাঙ্ক কী বার্তা দেয়, সে দিকে সতর্ক নজর রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। সেই ইতিবাচক প্রত্যাশায় ভর করেই এ দিন হেভিওয়েট শেয়ারগুলি নতুন করে কেনার ধুম পড়ে।
দ্বিতীয় বড় কারণটি হল, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের (crude oil) দামে কিছুটা পতন। জ্বালানি তেলের দাম কমায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পথ সহজ হয়। ফলে সার্বিক ভাবে ঘরোয়া লগ্নিকারীদের আস্থা অনেকটাই বেড়েছে।
দৌড়ে এগিয়ে কোন কোন ক্ষেত্র?
এ দিনের উত্থানে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারক বা ফার্মা (pharma), রাসায়নিক (chemicals), বেসরকারি ব্যাঙ্ক (private banks) এবং তেল-গ্যাস (oil and gas) ক্ষেত্র। নিফটির সেরা লাভের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ট্রেন্ট (Trent), বিএসই (BSE) এবং কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের (Kotak Mahindra Bank) মতো শেয়ারগুলি।
লক্ষণীয় বিষয় হল, এই তেজি ভাব কেবল শীর্ষ সংস্থাগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মিডক্যাপ (Nifty MidCap) সূচক বেড়েছে ১.০৮ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ (Nifty SmallCap) সূচক লাফিয়েছে ১.৫৬ শতাংশ। তবে সামগ্রিক ইতিবাচক ট্রেন্ডের মধ্যেও তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি (information technology) ক্ষেত্রে কিছুটা মুনাফা তোলার (profit booking) প্রবণতা দেখা গিয়েছে, ফলে নিফটি আইটি সূচক এ দিন কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।
টেকনিক্যাল চার্ট কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?
টানা পতনের পর এই ঘুরে দাঁড়ানো নিফটির স্বল্পমেয়াদি চার্টকে (technical chart) কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু টেকনিক্যাল বিশ্লেষকেরা এখনই অতিরিক্ত আত্মতুষ্টির জায়গা দেখছেন না। তাঁদের অভিমত, এই তেজি গতি স্থায়ী করতে হলে নিফটিকে সবার আগে ২২,৮০০ পয়েন্টের বাধা নিশ্চিত ভাবে পার করতে হবে। এই স্তরটি টপকে সূচক থিতু হতে পারলেই নিফটির সামনে খুলে যাবে বহুল প্রতীক্ষিত ২৩,০০০ পয়েন্টের রাস্তা।
কোথায় নজর রাখা দরকার?
স্বল্পমেয়াদে বাজারের অভিমুখ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তের উপর। শীর্ষ ব্যাঙ্কের সুদের হার, বাজারে নগদের জোগান (liquidity) এবং অর্থনৈতিক গতিবিধি সংক্রান্ত মূল্যায়ন স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাজারে নতুন করে বড় বাজি ধরা ঝুঁকির বিষয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই উত্থান কতটা টেকসই হয়, তা পরখ করতে আপাতত নজর রাখতে হবে ২২,৮০০ পয়েন্টের স্তর এবং আরবিআইয়ের বার্তার দিকেই।