ঘুরে দাঁড়ালো সেনসেক্স

সকালের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ার বাজার। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে বড়সড় পতনের মুখে পড়লেও দিনের মধ্যভাগে ক্রেতাদের সক্রিয়তায় ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। ফলে সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই দিনের নিম্নতম স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপরে উঠে আসে।

দিনের শুরুতে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) সেনসেক্স ৫৩৮.৮৭ পয়েন্ট বা ০.৭২ শতাংশ পড়ে ৭৩,৮০৭.৩০-এ নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নিফটি ১৫৮.৩০ পয়েন্ট বা ০.৬৭ শতাংশ হারিয়ে ২৩,২৪৭.৩০-এ পৌঁছে যায়। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

তবে নিম্নস্তরে পৌঁছানোর পর বাজারে ভ্যালু বায়িং বা তুলনামূলক কম দামে ভালো শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় সূচকগুলি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা কয়েক দিনের সংশোধনের পর বহু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েছেন।


বাজারের মনোভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কেন্দ্র সরকারের একটি সম্ভাব্য নীতিগত সিদ্ধান্তও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) জন্য কর সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করতে সরকার একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করেছে।

এছাড়া ভারতীয় মুদ্রার কিছুটা শক্তিশালী হওয়া, বন্ড ইল্ডের চাপ কমা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তির আবহও বাজার পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে ধাতু ও নির্বাচিত ব্লু-চিপ শেয়ারগুলিতে কেনাকাটার প্রবণতা বাজারকে বাড়তি সমর্থন দেয়।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থান এবং কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত পদক্ষেপের উপরই বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশ অনেকাংশে নির্ভর করবে। তবে এ দিনের পুনরুদ্ধার বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে এবং বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।