সপ্তাহের প্রথম দিনেই চাঙ্গা মেজাজে শুরু হয়েছিল ভারতীয় শেয়ার বাজারের লেনদেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত বাজারে শক্ত অবস্থান বজায় রাখলেও দিনের শুরুতে দেখা তীব্র উত্থানের গতি কিছুটা কমে রেজিস্ট্যান্স স্তরের কাছে পৌঁছে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ BSE Sensex ৮৩৯.৫৫ পয়েন্ট বা ১.১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬,২৫৪.৯০ পয়েন্টে। অন্যদিকে Nifty 50 ২৩৪.৯৫ পয়েন্ট বা ০.৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছয় ২৩,৯৫৪.২৫-এ। দিনের শুরুতে নিফটি ২৪ হাজারের স্তর ছুঁয়ে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বিক্রি।
বাজারে সার্বিক চিত্র অবশ্য ইতিবাচকই রয়েছে। বিএসই-তে মোট ৪,৩৩৮টি শেয়ারের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২,৮৪১টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যেখানে ১,২৭৬টি শেয়ার পড়ে যায়। অপরিবর্তিত ছিল ২২১টি শেয়ার। এদিন ১৩৫টি শেয়ার ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছয়, বিপরীতে ৪৫টি শেয়ার ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। আপার সার্কিটে ছিল ২৫৬টি শেয়ার, আর লোয়ার সার্কিটে ১৪৯টি। নিফটির অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন অনুপাত দাঁড়ায় ৪৩:৭, যা আজ বাজারে ক্রেতাদের আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিফটি ৫০ সূচকে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে Eicher Motors। সংস্থার শেয়ার ৫.৩৬ শতাংশ বেড়ে ৭,৩৫৬ টাকায় পৌঁছয়। পাশাপাশি Adani Enterprises প্রায় ২.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৭৯৬.৩০ টাকায় ওঠে। Shriram Finance ২.৫২ শতাংশ বেড়ে ৯৬৪.৭৫ টাকায় পৌঁছয়। অন্যদিকে Wipro-র শেয়ার ২.৩৯ শতাংশ বেড়ে ২০৭.৯৭ টাকায় ওঠে। গত সপ্তাহে আইটি সূচকে ৪.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে Max Healthcare। সংস্থার শেয়ার ২.৬৬ শতাংশ কমে ৯৯৬ টাকায় নামে। Hindalco Industries ২.৪২ শতাংশ পড়ে যায়। তেলের দামে বড় পতনের কারণে চাপের মুখে পড়ে ONGC-র শেয়ারও। সেটি ১.৭৬ শতাংশ কমে ২৮৪.৯০ টাকায় নামে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে নিফটি একটি সাইডওয়ে কনসলিডেশন পর্যায়ে রয়েছে। ২৩,৮৫০ থেকে ২৩,৮৭০ অঞ্চল এখন গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে ২৪,১০০ থেকে ২৪,১২০ স্তর বড় রেজিস্ট্যান্স। এই স্তর ভাঙতে পারলে নিফটি ২৪,৩২০ পর্যন্ত যেতে পারে। তবে ২৩,৮৫০-এর নিচে নামলে পরবর্তী সাপোর্ট থাকবে ২৩,৬০০ থেকে ২৩,৫০০ অঞ্চলে।
পণ্য বাজারেও এদিন বড় বেশি সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় এমসিএক্স ক্রুড অয়েল ৯,০০০ টাকার নিচে নেমে ৮,৭০০-৮,৮০০ টাকার মধ্যে লেনদেন করছিল। সোনার দাম এমসিএক্সে ১,৫৯,০০০ টাকার উপরে স্থির ছিল। একই সঙ্গে ডলার-টাকার বিনিময় হারও কিছুটা স্বস্তি দেয়। ইউএসডি/আইএনআর জুটি ৯৫.৩ থেকে ৯৫.৪ অঞ্চলে ঘোরাফেরা করছিল, যা আগের রেকর্ড নিম্নস্তর ৯৬.৯৬ থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।