ভারত সরকার দেশের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকে চাঙ্গা করতে এক বিশাল পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল দেশের সমুদ্রীয় এলাকায় লুকিয়ে থাকা বিপুল জ্বালানি সম্পদকে কাজে লাগানো। ভারত বর্তমানে তার তেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে, যা দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রীয় এলাকায় নতুন অনুসন্ধান, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো নির্মাণে জোর দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উপকূলীয় এলাকায় বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করতে চায়। প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও উৎসাহিত করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সহজ নিয়মকানুন করা হবে।
এই প্রকল্প চালু হলে দেশের তেল উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানি কমবে। ফলে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগ চাষিদেরও উপকৃত করবে। গ্যাস উৎপাদন বাড়লে সারের দাম কমবে। শিল্পক্ষেত্রে সস্তায় গ্যাস পাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কমবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, সমুদ্রীয় অনুসন্ধানের সময় পরিবেশ সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
যদিও আজ মাসের শেষদিনে স্বস্তি পেয়েছে আমজনতা। কারণ বাড়েনি তেলের দাম। আজ দিল্লিতে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৯৫.২০ টাকা। একইভাবে নয়ডা ও গাজিয়াবাদে পেট্রলের দাম একই। দু’টি শহরে প্রতি লিটার ১০২.১২ টাকা আর ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৯৭.৫৬ টাকা রয়েছে। কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে প্রতি লিটারে ১১৩.৪৭ টাকা এবং ৯৯.৮২ টাকা। বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিম এশিয়ায় অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কারে আক্রমণের কোনো খবর সামনে আসেনি। ফলে দাম কমেছে অপরিশোধিত তেলের। রয়টার্সের তরফে জানা গিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৭.৩০ মার্কিন ডলার হয়েছে।