বাস, অটো কিংবা ছোট দোকানে খুচরো লেনদেনের সময় ছেঁড়া নোট নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার নোটের জোগান কমে যাওয়ার পাশাপাশি যে নোটগুলি বাজারে রয়েছে, তার অনেকগুলির অবস্থাই অত্যন্ত খারাপ। এই পরিস্থিতিতে নোটের স্থায়িত্ব বাড়াতে বড় পদক্ষেপের ভাবনা শুরু করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)।
জানা গিয়েছে, আরবিআই ফের পলিমার বা প্লাস্টিক ব্যাঙ্কনোট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলক ভাবে পাইলট প্রোজেক্টের অধীনে পলিমার নোট বাজারে আনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। মূলত নোট ছাপানোর ক্রমবর্ধমান খরচ এবং বাজারে নোটের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি পটনা এবং মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত আরবিআইয়ের বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে কাগজের নোটের বদলে পলিমার নোট চালুর সুবিধা এবং সম্ভাব্য খরচ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোট কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। সহজে ছিঁড়ে যায় না, জল লাগলেও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট ছাপানোর খরচও কমানো সম্ভব হতে পারে। বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই প্লাস্টিক বা পলিমার নোট ব্যবহার করছে এবং সেখানে ইতিবাচক ফল মিলেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নোট ছাপাতে আরবিআইয়ের খরচ হয়েছে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই খরচ ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নোট ছাপানোর ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পলিমার নোট চালু হলে সাধারণ মানুষেরও সুবিধা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ছেঁড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট নিয়ে নিত্যদিনের ঝামেলা অনেকটাই কমবে। তবে কবে থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে এই নোট চালু হবে এবং কোন মূল্যমানের নোট প্রথমে আনা হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।