এক মাসেই ৩.১ লক্ষ ঘরে পাইপ গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবি কেন্দ্রের

প্রতীকী চিত্র

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে রান্নার গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি সামলাতে এবার বড় পদক্ষেপের কথা জানাল কেন্দ্র। মোদী সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, মার্চ মাসেই ৩ লক্ষ ১০ হাজারের বেশি পাইপ গ্যাস সংযোগ চালু করা হয়েছে। আর নতুন করে আরও ২ লক্ষ ৭০ হাজার সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যেগুলিও দ্রুত চালু করার কাজ চলছে।

পেট্রোলিয়াম দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালি থেকে হোটেল, হোস্টেল ও ক্যান্টিন— সব ক্ষেত্রেই পাইপ গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সিলিন্ডারের উপর নির্ভরতা কমবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে। মার্চ মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লক্ষের বেশি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও গ্যাসের অভাবের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে দপ্তর। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারও ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে। ২৩ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

আরও দাবি করা হয়েছে, গাড়ির জ্বালানি গ্যাস ও পাইপ গ্যাসের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়া বজায় রাখা হয়েছে। তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন আগে মেটানো যায়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি সরবরাহে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও, দেশের ভিতরে কোনও ঘাটতি যাতে না হয়, তার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব রিফাইনারি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রাখা হয়েছে।


দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চলছে। যদিও কিছু জায়গায় গুজবের জেরে অতিরিক্ত কেনাকাটার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছে, তাতে ভিড় বেড়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোথাও জ্বালানির অভাব নেই। মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
অনলাইনে গ্যাস বুকিংয়ের হার এখন প্রায় ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ কোড ব্যবস্থার ব্যবহারও অনেক বেড়েছে। এতে গ্যাসের অপব্যবহার বা অন্যত্র সরানোর সম্ভাবনা কমছে।

এদিকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং আগের অবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশে ফিরে এসেছে। ইস্পাত, গাড়ি, বস্ত্র, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গ্যাস বরাদ্দ করা হচ্ছে। শহরাঞ্চলে পাইপ গ্যাস পরিষেবা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, হোটেল, স্কুল, কলেজ, হোস্টেল ও অঙ্গনওয়াড়ি রান্নাঘরে দ্রুত সংযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে সিলিন্ডারের উপর চাপ কমে।

প্রশাসনের মতে, এই সব পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘমেয়াদে সিলিন্ডারের বদলে পাইপ গ্যাস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে এবং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।