ফের ধস নিফটিতে

(ANI): A share broker reacts

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র আকার নেওয়ায় বড় ধাক্কার ইঙ্গিত মিলছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বৃহস্পতিবার গিফট নিফটি ফিউচার্স প্রায় ২ শতাংশ ভেঙে পড়েছে। এর জেরে শুক্রবার বাজার খুললেই সেনসেক্স ও নিফটিতে বড় পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বকরি ঈদ উপলক্ষে দেশীয় শেয়ার বাজার বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুক্রবারের ট্রেডিং সেশনের দিকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল হওয়া, অপরিশোধিত তেলের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন এবং এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ার বাজারে বড় পতনের জেরেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গিফট নিফটি প্রায় ২ শতাংশ নেমে ২৩,৫৮০ স্তরে পৌঁছয়, যা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে শুক্রবার ভারতীয় বাজারে বড় গ্যাপ-ডাউন ওপেনিং হতে পারে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুধবার রাতে ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আমেরিকার নতুন হামলার খবর সামনে আসার পর। গত তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাল্টা জবাবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। একইসঙ্গে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও সামনে এসেছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।


মার্কিন সেনার দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে চারটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি ড্রোন কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সেনা ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতির উপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এশিয়ার শেয়ার বাজারেও ব্যাপক চাপ দেখা গিয়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেন্স সূচক ১.৪২ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ১ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক ০.৬২ শতাংশ নেমেছে।

যদিও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের একাংশ এখনও বাজারের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক বলতে নারাজ। তাঁদের মতে, নিফটি এখনও ২০ দিনের ইএমএ-র উপরে রয়েছে, ফলে সাময়িক চাপ থাকলেও বাজারে স্টকভিত্তিক লেনদেন জারি থাকতে পারে।