বিশ্ববাজারের লক্ষ্যে বাংলা, এমএসএমই-র হাত ধরে বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

PIC- SOCIAL MEDIA

দেশের বৃহৎ বাণিজ্য মঞ্চে নিজেদের শিল্প-সম্ভাবনা তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, হস্তশিল্প এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে এক ছাতার তলায় এনে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। সেই লক্ষ্যেই ‘ভারতীয় ব্যবসা মহোৎসব ২০২৬’-এ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাংলার এমএসএমই প্যাভিলিয়ন। দিল্লির প্রগতি ময়দানে ১২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এই ভারতীয় ব্যবসা মহোৎসব চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভাবনার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ‘ভারতীয় ব্যবসা মহোৎসব ২০২৬’। এটি একটি বহু-ক্ষেত্রের বড় বাণিজ্য মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। হাজির রয়েছেন নীতি-নির্ধারকরাও। এই মঞ্চেই রাজ্যের নিজস্ব এমএসএমই প্যাভিলিয়ন বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। গত ১২ আগস্ট এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র মন্ত্রী দীপক বর্মন।

চার দিনের এই প্রদর্শনীতে বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে ঘটেছে আধুনিকতার মেলবন্ধন। এক ছাদের তলায় উঠে এসেছে জেলার হস্তশিল্প, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বড় সুযোগ। বাজার তৈরি, অর্থের জোগান সহজ করা এবং সরকারি সহায়তা উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।


পশ্চিমবঙ্গের এমএসএমই শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশের লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্পের পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সমস্ত এমএসএমই-র জন্য সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা, রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা এবং পশ্চিমবঙ্গকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় আনার উদ্যোগ। পাশাপাশি রাজ্যে উদ্যমে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা চালু করা এবং এমএসএমই ক্ষেত্র ও কারুশিল্পীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও জানানো হয়েছে।

এই বাণিজ্য মেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের পাশাপাশি ২০টি রাজ্য অংশ নিয়েছে। রয়েছেন ১ হাজারের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ লক্ষ প্রতিনিধি। মেলার মাধ্যমে ১০ লক্ষের বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন ৫ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি। ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলার হস্তশিল্প, এমএসএমই পণ্য এবং নতুন প্রযুক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে নতুন সম্ভাবনার পথে এগোচ্ছে বাংলা।