এসআইপি-তে মাত্র ১ হাজার বেশি বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদে রিটার্নে বিপুল ফারাক হতে পারে

প্রতীকী চিত্র

নিয়মিত বিনিয়োগের সঙ্গে প্রতি বছর অঙ্ক বাড়ানোর কৌশলই বদলে দিতে পারে সম্পদের হিসাব। শুরুতে মাসে মাত্র ১ হাজার টাকা বেশি এসআইপি করলেই দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হতে অনেক বেশি আর্থিক লাভ। যে কোনও এসআইপি বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানে যদি বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো যায় তাহলে কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা আরও বেশি করে পাওয়া যায়। হিসাব বলছে, মাত্র ১ হাজার টাকা বেশি বিনিয়োগ দিয়ে কেউ যদি শুরু করে তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে তৈরি হতে পারে বড় মাপের  পার্থক্য।

সম্পদ তৈরির পথে নিয়মিত বিনিয়োগকে তুলনামূলক সহজ কৌশল হিসেবে ধরা হয়। তবে শুধু প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক বিনিয়োগ করলেই হবে না, সময়ের সঙ্গে সেই অঙ্ক বাড়াতে পারলে চক্রবৃদ্ধির সুবিধাও আরও জোরালো হয়। সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানে প্রতি বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ করে বাড়ানোর এই কৌশলকেই বলা হয় ‘স্টেপ-আপ এসআইপি’।

একটি হিসাবেই তার প্রভাব স্পষ্ট। মাসে ৫ হাজার টাকা দিয়ে এসআইপি শুরু করে প্রতি বছর বিনিয়োগ ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হলে, ১৫ বছরে মোট বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। বছরে গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া গেলে আনুমানিক রিটার্ন হতে পারে ৬৫ লক্ষ ৭ হাজার ৮৫৭ টাকা। অর্থাৎ মেয়াদ শেষে মোট কর্পাস দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৫৭ টাকা।


কিন্তু শুরুতেই মাসিক এসআইপি-র অঙ্ক ১ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার করা হলে ছবিটা আরও বদলে যায়। একই ১০ শতাংশ বার্ষিক স্টেপ-আপ এবং ১২ শতাংশ প্রত্যাশিত রিটার্ন ধরে ২০ বছরের হিসাবে মোট বিনিয়োগ হতে পারে ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৯৯ টাকা। আনুমানিক রিটার্ন ৭৮ লক্ষ ৯ হাজার ৪২৯ টাকা। ফলে মোট কর্পাস দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ২২৯ টাকা। অর্থাৎ আগেরটির তুলনায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ফারাক।

সময় আরও বাড়লে সেই ব্যবধানও চওড়া হয়। ২৫ বছর ধরে মাসে ৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে প্রতি বছর ১০ শতাংশ স্টেপ-আপ করলে কর্পাস হতে পারে প্রায় ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। আর শুরুটা ৬ হাজার টাকা দিয়ে হলে তা পৌঁছতে পারে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকায়।

অর্থাৎ শুরুতে অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা বেশি বিনিয়োগ এবং নিয়মিত স্টেপ-আপ, দুইয়ের মিলিত প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল লাভ হতে পারে। তবে শেয়ারবাজার-নির্ভর বিনিয়োগে রিটার্ন কখনও নিশ্চিত নয়। তাই এই হিসাব প্রত্যাশিত রিটার্নের ভিত্তিতে তৈরি। অবসর-সহ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দীর্ঘ সময় বাজারে থাকার সুযোগই মূল শক্তি। আর চক্রবৃদ্ধির সুফল সেখানেই।