বড়সড় আইনি জটিলতায় জনপ্রিয় মদ ‘ওল্ড মঙ্ক’। আর ‘রাম’ হিসাবে বাজারে বিক্রি করা যাবে না এই পানীয়। এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথারিটি অব ইন্ডিয়া। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বম্বে হাই কোর্টে মামলা চলছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ওল্ড মঙ্ক তৈরিতে নিউট্রাল স্পিরিটের সঙ্গে রাম ফ্লেভারিং ব্যবহার করা হয়। তাই সরাসরি ‘রাম’ হিসাবে সেটিকে বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া যায় না। পরিবর্তে ‘রাম-ফ্লেভারযুক্ত স্পিরিট’ হিসাবে উল্লেখ করতে হবে।
এফএসএসএআই-এর আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট করে বলেন, আপত্তি শুধু বোতলের লেবেল নিয়ে নয়। মূল প্রশ্ন হল, পানীয়টির প্রকৃতি আসলে কী। যে পানীয় তৈরিতে নিউট্রাল স্পিরিট ও রাম ফ্লেভারিং ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিকে সরাসরি রাম হিসাবে বিক্রি করা যায় না বলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান।
ইতিমধ্যেই আদালতে সংশোধিত লেবেল জমা দিয়েছে ওল্ড মঙ্ক প্রস্তুতকারী সংস্থা। সেই লেবেল পরীক্ষা করে অনুমোদন দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছে এফএসএসএআই। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিনই স্পষ্ট হতে পারে, নতুন কোন লেবেলে বাজারে ফিরবে জনপ্রিয় এই পানীয়।
এর আগে সোমবারের শুনানিতে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, বোতলের লেবেল থেকে ‘৭ বছর পুরনো মিশ্রণ’ লেখা সরিয়ে দিতে তারা প্রস্তুত। তার পরেই বম্বে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সংশোধিত লেবেল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং গৌতম এ আনখাড়ের বেঞ্চ এফএসএসএআই-কেও নির্দেশ দিয়েছে, প্যাকেজিংয়ে ঠিক কী কী তথ্য উল্লেখ করা যাবে, তা স্পষ্ট করতে। উদ্দেশ্য, কোনওভাবেই যেন লেবেল দেখে ক্রেতাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি না হয়। পাশাপাশি সংশোধিত লেবেল রাজ্যের আবগারি দফতরকে দ্রুত পরীক্ষা করে অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘৭ বছর পুরনো’ লেখা নিয়েও আপত্তি
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বোতলের গায়ে ‘৭ বছর পুরনো মিশ্রণ’ লেখা দেখে সাধারণ ক্রেতার মনে হতে পারে, পানীয়টি সাত বছর ধরে সংরক্ষণ করে পরিণত করা হয়েছে। বাস্তবে তা না হলে ওই লেখা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তার উপর বোতলের লেবেলের কিছু লেখা এতটাই ছোট যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা পড়াও কঠিন বলে আদালতে মন্তব্য করা হয়েছে।
ওল্ড মঙ্কের প্রস্তুতকারী সংস্থার হয়ে সওয়াল করা প্রবীণ আইনজীবী নভরোজ এইচ সিরভাই জানান, প্রায় ১২০ দিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে সংস্থার প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি টাকা করে ক্ষতি হয়েছে।
শুধু ওল্ড মঙ্ক নয়, নিশানায় আরও ব্র্যান্ড
এফএসএসএআই-এর আপত্তি অবশ্য শুধু ওল্ড মঙ্ককে ঘিরে নয়। একই ধরনের আপত্তির মুখে পড়েছিল ইউনাইটেড স্পিরিটসও। যদিও গত ২৪ অগস্ট তারা নিজেদের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ মেনে বেশ কয়েকটি সংস্থা তাদের পণ্যের লেবেল বদলাতে অথবা বিতর্কিত ফ্লেভারিং উপাদান সরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। তবে লেবেলে পরিবর্তন এলেও পানীয়ের মূল উপাদানের বিন্যাস অপরিবর্তিত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।
কেন এফএসএসএআই-এর আপত্তি?
বিতর্কের সূত্রপাত নিয়ন্ত্রক সংস্থার করা কয়েক দফা পরীক্ষাকে ঘিরে। পরীক্ষায় কয়েকটি পানীয়তে কৃত্রিম বা প্রকৃতির সঙ্গে অভিন্ন ফ্লেভারিং উপাদান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি এফএসএসএআই-এর। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের ফ্লেভারিং কোনও পানীয়ের নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধকে আড়াল করতে পারে।
২০১৮ সালের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডসের মদ্যপ পানীয় সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, রাম বা হুইস্কির মতো নির্দিষ্ট শ্রেণির পানীয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্বাদ ও গন্ধ থাকা প্রয়োজন। ফলে রামে রাম ফ্লেভার কিংবা হুইস্কিতে অতিরিক্ত ফ্লেভার যোগ করা হলে পানীয়টির প্রকৃতি সম্পর্কে ক্রেতার মনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে এফএসএসএআই-এর দাবি।
এই যুক্তিতেই ম্যাকডাওয়েলস নম্বর ওয়ান রাম, অ্যান্টিকুইটি ব্লু হুইস্কি, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ হুইস্কি, ওল্ড মঙ্কের কয়েকটি ধরন, ব্যাগপাইপার ডিলাক্স হুইস্কি এবং ওল্ড ক্যাস্ক ডিলাক্স ট্রিপল এক্স রাম-সহ একাধিক পণ্যের নির্দিষ্ট ধরনের বিক্রিতে আপত্তি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এখন নজর ১১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে। জনপ্রিয় ওল্ড মঙ্ক শেষ পর্যন্ত ‘রাম’ নামেই ফিরবে, নাকি বোতলে বদলে যাবে পরিচয়—সেদিকেই তাকিয়ে ক্রেতা থেকে শুরু করে মদ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি।