অ্যামাজনে কর্মী ছাঁটাই, উৎসবের মরশুমে ভারতেও কাজ হারালেন কর্মীরা 

উৎসবের মরশুমে ফের চাকরি হারানোর খবর ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজনে। সংস্থার বিভিন্ন টিমে নতুন করে ছাঁটাই শুরু হয়েছে।  ভারত, আমেরিকা এবং ব্রিটেনের কর্মীরাও এই ছাঁটাইয়ের আওতায় রয়েছেন। বুধবার অ্যামাজনও কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, তাদের ‘স্টোরস’ ব্যবসার কিছু অংশে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। গ্রাহকদের অগ্রাধিকার এবং সংস্থার বর্তমান লক্ষ্যগুলি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্যই এই পরিবর্তন করা হয়েছে। এর জেরে কয়েকটি পদ বিলুপ্ত করার ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলেও জানিয়েছে অ্যামাজন।এবারের ছাঁটাই মূলত অ্যামাজনের অনলাইন স্টোর ব্যবসার বিভিন্ন অংশে হয়েছে। কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটপ্লেস সাপোর্ট, সেলিং পার্টনার সার্ভিসেস এবং রিটেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগেও কর্মীরা প্রভাবিত হয়েছেন বলে খবর। ছাঁটাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সংস্থার  কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাকরি হারানোর পাশাপাশি ছাঁটাইয়ের পরে কী সুবিধা মিলবে এবং সংস্থার অন্য বিভাগে চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।নতুন করে ফের এই কর্মী ছাঁটাই গত বছর থেকেই চলছে। ২০২৫-এর শেষ দিকে অ্যামাজন প্রায় ৩০ হাজার কর্পোরেট পদ কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। সেই প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ায়। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস পরে জানিয়েছিলেন, করোনার সময় অনলাইন কেনাকাটা দ্রুত বাড়ায় চাহিদা সামলাতে অ্যামাজন বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করেছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে কর্মী সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে কর্মী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থা।এদিকে, অ্যামাজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে একদিকে নতুন প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ, অন্যদিকে কর্মী ছাঁটাই – সংস্থার এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের বাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলেও ছাঁটাইয়ের ধাক্কা থেকে এ দেশের কর্মীরাও পুরোপুরি মুক্ত থাকছেন না।