পশ্চিমবঙ্গে বন্দর ও পরিকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন আদানি গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তা করণ আদানি। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এপিএসইজেড)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানি। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে রাজ্যের বন্দর, লজিস্টিকস এবং অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই বৈঠককে ঘিরে শিল্পমহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে নতুন গতি আসতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি খুব একটা চোখে পড়েনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের অক্টোবরে তৎকালীন রাজ্য সরকার তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোনকে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) প্রদান করেছিল। সেই সময় ঘোষণা করা হয়েছিল যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বড়সড় পরিবর্তন আসবে এবং বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের কাজ কার্যত এগোয়নি।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর একাধিক ব্যবসায়িক উপস্থিতি রয়েছে। হলদিয়ায় আদানি উইলমারের মাধ্যমে একটি ভোজ্যতেল উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান অয়েলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন পরিষেবার লাইসেন্সও রয়েছে তাদের হাতে। এছাড়াও কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে একাধিক বার্থ মেকানাইজেশন প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে আদানি গোষ্ঠী।
বুধবারের বৈঠকে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বন্দর অবকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবুও শিল্পমহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
প্রসঙ্গত, তাজপুর বন্দর প্রকল্পে প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন করণ আদানির নবান্ন সফরের পর সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।