সোমবারের লেনদেনে সেনসেক্স ৬৭৯.৯০ পয়েন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে ৭৪,৯৭৪.৮৬ পয়েন্টে পৌঁছয়। নিফটি ৫০-ও ১১৫.৭০ পয়েন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ২৩,৪৬২.১০ পয়েন্টে ছিল। এর আগে দিনের শুরুতে অবশ্য বাজারের গতি ছিল তুলনামূলক ধীর।
গত সপ্তাহের শেষের দিনে অর্থাৎ গত শুক্রবার সামান্য হলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় শেয়ার বাজারে শেয়ার কেনা অনেক বিশেষজ্ঞের মতে আশার আলো। কিছু বিনিয়োগকারী আবার এখনই বলতে রাজি নয় যে, বাজার ঠিক হয়ে গেছে। তাদের মতে বাজারকে আরেকটু সময় দেওয়া হবে যুক্তিযুক্ত। গত সপ্তাহে ভারতের শেয়ার বাজারের সূচকের পরিবর্তন হয়েছে সামান্য। ভারতের প্রধান দুই সূচক সেন্সেক্স এবং নিফটি যথাক্রমে ০.৬৫% এবং ০.২২ শতাংশ নিচে বন্ধ হয়েছে গত সপ্তাহে সমগ্র সপ্তাজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করেছে প্রায় ৭৬০০ কোটি টাকার শেয়ার। আবার অন্যদিকে দেখতে গেলে যথারীতি ক্রেতার ভূমিকায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা, সমগ্র সপ্তাহ জুড়ে তাদের কেনার পরিমাণ প্রায় এগারো হাজার কোটি টাকার মতো। জাপান এবং আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের সুদের হার বাড়ানোর জন্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সমগ্র বিশ্বের প্রধান প্রধান বাজারের মুখ ভার ছিলো গত সপ্তাহে। আমেরিকার প্রধান সূচক DOWJONES গত সপ্তাহে বন্ধ হয়েছে প্রায় ১.৬৯ শতাংশ নিচে। পক্ষান্তরে NASDAQ কিছুটা উপরে বন্ধ হলেও এসঅ্যান্ডপি৫০০ মোটের উপর ছিলো ফ্ল্যাট গত সপ্তাহে। কেবল আমেরিকা নয়, সমগ্র ইউরোপ থেকে এসেছে তাদের প্রধান প্রধান সূচকের পতনের খবর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতা। সম্প্রতি সৌদি আরবের একটি সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের অনেক দেশে এখন জ্বালানি তেলের সংকট। ইউরোপের দেশগুলিতে পেট্রোল, ডিজেল, ন্যাচারাল গ্যাস থেকে শুরু করে গ্যাসোলিনের দাম গত এক বছরে আকাশ ছুঁয়েছে, ফলে ইউরোপের অনেক দেশের অর্থনীতির আকাশে ঘনিয়ে উঠেছে কালো মেঘ, সেই সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। এর ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশগুলিতে অদুর ভবিষ্যতে বাড়তে পারে সুদের হার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যার ফল স্বরূপ ব্যাক ফুটে যেতে পারে ইউরোপের অর্থনীতি, এবং এর প্রভাব আসতে পারে সমগ্র বিশ্বের শেয়ারবাজারের উপর।
গত সপ্তাহে মাইক্রো লেভেলে বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মিডিয়া, এফএমসিজি, মেটাল, ফার্মা, প্রভৃতি সেক্টরের পারফরম্যান্স ছিল বেশ ভালো। আবার অন্যদিকে অটো, রিয়ালিটি, সিপিএসই, ব্যাঙ্ক প্রভৃতি সেক্টরের পারফরম্যান্সে খুশি হয়নি বিনিয়োগকারীরা। বাজারের উত্থান-পতন সপ্তাহের শেষের দিকে কমে আসার জন্য ইন্ডিয়াভিক্সের পতন হয়েছে প্রায় ৭ শতাংশের মতো৷ গত সপ্তাহের শেষে ভলাটিলিটি ইনডেক্সের অবস্থান ছিলো ১১.৩৯ এর কাছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপে ডলার পিছু টাকার দাম পৌঁছে গেছে ৯৫.৮১ টাকায়। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির পরিমাণ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে টাকার দামের উপর আরও চাপ আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাপ্তাহিক বন্ধের ভিত্তিতে সোনার দাম একটু উপরে বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৫৪০০০ টাকার আশেপাশে। গত সপ্তাহে বেশ ভালো মুভমেন্ট ছিল রুপোর দামে। প্রতি কিলো রুপার দাম বর্তমানে প্রায় ২৪২০০০ টাকার আশেপাশে। পশ্চিম এশিয়ায় টেনশনের জন্য ব্যারেল পিছু অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল গত সপ্তাহের শেষে প্রায় ১০৪ ডলারের আশেপাশে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে বা তেল নিয়ে জটিলতা বাড়লে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেলের দাম বাড়ার ফলে চাপ আসবে কোম্পানি প্রফিট মারজিনে। চাপ আরও কতটা আসতে পারে তা নির্ভর করছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং অস্বাভাবিক রকম আমেরিকার বন্ড ইল্ডের বৃদ্ধির ফলে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গেলো ভারতের বাজারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন। অবশ্য ভারতের ডাইরেক্ট ট্যাক্স কালেকশন ছাড়িয়ে গেছে ১২ লক্ষ কোটি টাকার ঘর। এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীকে আশার আলো দেখাবে।
বাজার আর কতটা পড়তে পারে কিংবা এখান থেকে বাজার উপরে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটা বা বাজার কি বটম বানিয়ে ফেলেছে? তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে থাকতে হবে স্বাভাবিক। বিনিয়োগ বজায় রাখতে হবে এবং ছোট ছোট করে বিনিয়োগ করতে হবে, আর অপেক্ষা করতে হবে ভালো সময়ের জন্য।
জ্বালানি তেলের সংকটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মুদ্রাস্ফীতি তুঙ্গে
Photo: Magnific