রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল টাকা, ডলারের দাম কমল ৯৪ পয়সা

সপ্তাহের শুরুতেই স্বস্তি ভারতীয় মুদ্রার বাজারে। মার্কিন ডলারের তুলনায় এক ধাক্কায় ৯৪ পয়সা বাড়ল টাকার দাম। সোমবার, ১২ অক্টোবর লেনদেন শুরুর কিছু ক্ষণের মধ্যেই এই উত্থান দেখা যায়। দুপুর ১টা নাগাদ প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য নেমে আসে ৯৫ টাকা ৬৫ পয়সায়। আগের লেনদেনে ডলারের দাম ৯৬ টাকা ৭১ পয়সায় পৌঁছেছিল। ফলে এক দিনের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল ভারতীয় মুদ্রা।

সোমবার ডলারের বিপরীতে প্রায় ১ শতাংশ শক্তিশালী হয় টাকা। এই উত্থানের নেপথ্যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, বিদেশি মুদ্রার বাজারে ফাটকাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের চাহিদা কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নেওয়া সিদ্ধান্ত রুপিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর বাতিল হওয়া টাকা-সংযুক্ত বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের পুনরায় বুকিংয়ের জন্য ডেরিভেটিভ চুক্তি নিষিদ্ধ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ জামানত রাখার বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশি মুদ্রার বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনের পরিসর কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


ভারতীয় জ্বালানি সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য নিয়মিত ডলার কিনতে হয়। এই চাহিদার উপর চাপ কমাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সরাসরি জ্বালানি সংস্থাগুলির কাছে ডলার বিক্রির একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে স্পট মার্কেটে ডলারের চাহিদা কমতে পারে। একই সঙ্গে টাকা-ডলারের লেনদেনে ফাটকাবাজিও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

তবে রুপির এই উত্থান কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাবে। তার জেরে ডলারের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি টাকার উপরেও নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন নিয়মে আমদানিকারীদের খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। বিদেশি মুদ্রার চুক্তির বিপরীতে নগদ জামানত রাখতে হলে ব্যাঙ্কগুলি আমদানিকারীদের উপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপাতে পারে। যদিও ডলারের ফরওয়ার্ড চাহিদা কমলে ভবিষ্যতে ডলার কেনার চুক্তির প্রিমিয়াম হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নগদের জোগানে টান এবং ব্যাঙ্কগুলির তহবিল সংগ্রহের উচ্চ খরচ সেই স্বস্তি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপে আপাতত টাকা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং ডলারের গতিবিধিই আগামী দিনে ভারতীয় মুদ্রার দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।