অ্যাপল-টেসলার শেয়ার বিক্রি করে চিনা সংস্থায় বিনিয়োগ! স্টকালের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির প্রতারণার অভিযোগ

pic-ai

আমেরিকার একাধিক নামী সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন ভারতীয়রা। সেই তালিকায় ছিল অ্যাপল, টেসলা, অ্যামাজন, গুগল, এনভিডিয়া এবং এএমডি-র মতো সংস্থা। অভিযোগ, বিনিয়োগকারীদের কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই রাতারাতি সেই সমস্ত শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বদলে তাঁদের অ্যাকাউন্টে কিনে নেওয়া হয়েছে প্রায় অপরিচিত একটি চিনা প্রযুক্তি সংস্থার বিপুল পরিমাণ শেয়ার। আর তাতেই কয়েক দিনের মধ্যে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রায় ৩০ জন ভারতীয় বিনিয়োগকারী। বেঙ্গালুরুর আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা স্টকালের বিরুদ্ধে উঠেছে এই অভিযোগ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।

নামী সংস্থার শেয়ার বিক্রি, বদলে কেনা চিনা সংস্থার স্টক

অভিযোগ, গত ১৫ অক্টোবর বিনিয়োগকারীদের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের অ্যাকাউন্টে থাকা মার্কিন সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। এক বিনিয়োগকারীর দাবি, তাঁর ১০টি সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে পাওয়া যায় ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৬৮ ডলার। সেই টাকা দিয়ে চিনের প্রযুক্তি সংস্থা ঝিবাও টেকনোলজির ৩ লক্ষ শেয়ার কেনা হয়। প্রতিটি শেয়ারের গড় দাম ছিল ১.০৫ ডলার।


কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সংস্থার শেয়ারের দর প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। ২৩ অক্টোবর দাম নেমে দাঁড়ায় ০.৪২ ডলারে। ওই বিনিয়োগকারীর দাবি, এর ফলে তাঁর মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা।

আর এক বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে তাঁর ৩১ লক্ষ ডলারের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে কেনা হয় কম লেনদেন হওয়া একটি সংস্থার ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার শেয়ার। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই গোটা লেনদেন সম্পন্ন হয়। অথচ, কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি, এমনকী অতিরিক্ত যাচাইও করা হয়নি বলে অভিযোগ।

নিরাপত্তার গাফিলতি, দায় ঠেলাঠেলি দুই সংস্থার

এই ঘটনার দায় নিয়ে স্টকাল এবং তাদের মার্কিন সহযোগী সংস্থা ড্রাইভওয়েলথের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। স্টকালের প্রাথমিক দাবি, ফিশিং কিংবা সামাজিক প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের ইমেল বা লগইন সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি সংস্থাটির।

অন্যদিকে, ড্রাইভওয়েলথের বক্তব্য, স্টকালের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই বহিরাগতরা বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিল। তাই নিরাপত্তার দায় সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের উপরই বর্তায়। গত ৩০ অক্টোবর এক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে পাঠানো চিঠিতে ড্রাইভওয়েলথ আরও দাবি করেছে, অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ এসেছিল স্টকালের তরফেই। এমনকী, ক্ষতির পরিমাণ কমাতে নেওয়া যেতে পারত এমন কিছু পদক্ষেপও স্টকালের নির্দেশে আটকে যায় বলে অভিযোগ।

এফআইআর দায়ের, সেবির দ্বারস্থ বিনিয়োগকারীরা

এই ঘটনায় বেঙ্গালুরুতে দায়ের হয়েছে এফআইআর। তাতে ড্রাইভওয়েলথ, স্টকাল সিকিউরিটিজ, বর্ডারলেস সফটেক, বর্ডারলেস ইনভেস্টিং এবং এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের নাম রয়েছে। তবে এফআইআরে এইচডিএফসি সিকিউরিটিজকে অভিযুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে মানিকন্ট্রোল।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিদেশি শেয়ারে বিনিয়োগের পরিষেবা চালু করেছিল স্টকাল। যদিও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দুই সংস্থার মধ্যে ওই পরিষেবা সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

ইতিমধ্যেই এক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। পাশাপাশি আমেরিকার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগ, তাঁদের অজান্তে কীভাবে এত বড় অঙ্কের লেনদেন সম্পন্ন হল? এই ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত কার উপর বর্তাবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, হারানো টাকা কিংবা বিক্রি হয়ে যাওয়া শেয়ারের ক্ষতিপূরণ কি আদৌ ফিরে পাবেন তাঁরা?