পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের আবহে জ্বালানির দাম আপাতত বাড়ছে না

প্রতীকী চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও দেশে আপাতত পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর। মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে বিস্তৃত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বিশ্ববাজারে স্পষ্ট হলেও ভারত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে ভারতের হাতে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির মজুত রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পথও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক শীর্ষকর্তার কথায়, ‘ভারতের হাতে ২৫ দিনের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের মজুত আছে। অপরিশোধিত তেল, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হলেও সাধারণ মানুষের উপর চাপ না বাড়াতে সতর্ক রয়েছে কেন্দ্র।


সংঘাতের সূত্রপাত হয় মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এর পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। জবাবে ইরান ইজরায়েল ও মার্কিন স্বার্থ জড়িত একাধিক স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটিও নিশানায় আসে।

ইরানের হামলার জেরে কাতার সাময়িকভাবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় বলে খবর। একই সঙ্গে সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারেও হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার হুঁশিয়ারি দেয়। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

সংঘাতের আবহে ব্রিটেনে গ্যাসের দাম ৪৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপিছু ৮১ মার্কিন ডলারের উপরে পৌঁছেছে।