পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে চাপ বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামে। আর সেই চাপে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যেই রাশিয়া থেকেই অপরিশোধিত তেল কেনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। গত মে মাসে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাশিয়ান তেলের ক্রেতা হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে ভারত। উঠে এসেছে এমনই এক তথ্য।
রিপোর্টে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে,মে মাসে ভারত রাশিয়া থেকে ৪.৮ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের অপরিশোধিত তেল কিনেছে। আর এপ্রিলের থেকে মে মাসে এই আমদানি বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ।
মে মাসে ভারত রাশিয়া থেকে ৫.৮ বিলিয়ন ইউরো দামের একাধিক হাইড্রোকার্বন আমদানি করেছে। যার মধ্যে সব থেকে বড় অংশ জুড়ে আছে অপরিশোধিত তেল। ভারতের একাধিক তেল শোধনাগার কম দামে রুশ তেল পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বলে এই আমদানি বেড়েছে। বিশেষেজ্ঞদের মতে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, ইরান সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ভারত এখনও সস্তা জ্বালানি সংগ্রহ করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আর রাশিয়ার সেরা ছাড়ের অফার সেই কারণেই ছাড়তে রাজি নয় ভারত।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের পরেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকার লাল চোখ ও পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে নয়াদিল্লি বারবার জানিয়েছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সব থেকে আগে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের অর্ধনীাতি সহ একাধিক ক্ষেত্রে। তাই কম দামে রুশ তেল কেনা এখন ভারতের কাছে সেরা অপশন। আর এই লেনদেনের মাধ্যমেই ভারত আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে রাশিয়ার, এমনটাই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও অন্যান্য দেশ থেকেও তেল কিনে থাকে ভারত। তবে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল ভারত কিনে চলেছে তা কার্যত নজিরবিহীন। আর এর ফলে সুবিধা হচ্ছে ভারতের তেল শোধনাগারগুলিরও। পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতেও। যেভাবে পরিকল্পনা মাফিক তেলের ভান্ডার রক্ষা করছে ভারত তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। এমনকি এক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকেও ভয় পায়নি তারা। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত আগে নিজের কথা ভাববে। নিজেদের মানুষের জন্য চিন্তা করবে। আর তার জন্য় ভারত সরকার সব কিছু করবে।