পাটিয়ালার ছেলে হিমাংশু বর্মা (Himansh Verma) মাত্র উনিশ বছর বয়সে ভারতের অন্যতম কনিষ্ঠ কোটিপতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এখন আটত্রিশে পৌঁছে তাঁর কোম্পানির সদর দপ্তর মুম্বইয়ে। তিনি নবরত্ন গ্রুপের (Navrattan Group) চেয়ারম্যান। তাঁর এই কোম্পানির দাবি, তাদের মোট মূল্য একশো কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ন’হাজার কোটি টাকা। এই সংস্থাটি সব দিক থেকেই সার্থকনামা। কারণ সংস্থার ব্যবসা ছড়িয়ে আছে নির্মাণ, বিকল্প শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মতো নানা ক্ষেত্রে। সম্প্রতি হিমাংশু জানিয়েছেন, তাঁর সংস্থা এবার নজর দিতে চলেছে ডিপ টেক প্রযুক্তির (Deep Tech) দিকে, যা তাঁর কথায় দেশের দীর্ঘমেয়াদি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।
সবুজ সিমেন্ট দিয়ে শুরু, লক্ষ্য ক্রমশ বড়
নবরত্ন গ্রুপের সবচেয়ে আলোচিত উদ্ভাবন গ্রিন সিমেন্ট (Green Cement)। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, প্রচলিত পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের তুলনায় তাদের গ্রিন ক্রিট (Green Crete) অনেক বেশি মজবুত, অথচ তৈরি করতে লাগে অনেক কম শক্তি। ফলে কার্বন নিঃসরণও কমে যায়। ভারতে সিমেন্ট শিল্প বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের একটা বড় অংশের জন্য দায়ী, তাই এমন বিকল্প পণ্যের গুরুত্ব অনেকখানি। হিমাংশুর কথায়, দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
এই সবুজ সিমেন্টের পাশাপাশি সংস্থার ঝুলিতে রয়েছে বৈদ্যুতিক বাস (Electric Bus), ব্যাসল্ট খনন (Basalt Mining) এবং নাড়া পোড়া থেকে জ্বালানি তৈরির আশ্চর্য প্রযুক্তির মতো একাধিক প্রকল্প। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ডিপ টেক, অর্থাৎ যে প্রযুক্তি সরাসরি বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে উঠে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা ভেবে তৈরি হয়।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গে নির্মাণ শিল্প বিশেষত কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মেট্রো সম্প্রসারণ, নতুন সেতু ও আবাসন প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ছে প্রতি বছর। এমন পরিস্থিতিতে যদি সত্যিই কম কার্বন নিঃসরণকারী সিমেন্ট বাজারে সহজলভ্য হয়, তাহলে রাজ্যের নির্মাণ সংস্থাগুলির কাছে সেটা একটা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যেখানে পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে জটিলতা এড়ানোর প্রশ্ন থাকে।
বৈদ্যুতিক বাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কলকাতা ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহন নিগমের মাধ্যমে একাধিক ইলেকট্রিক বাস চালু করেছে। নতুন কোনও সংস্থা যদি সাশ্রয়ী ও টেকসই বিকল্প নিয়ে আসে, তাহলে রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য সেটা কাজে লাগতে পারে। তবে এই মুহূর্তে নবরত্ন গ্রুপের তরফে পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি কোনও লগ্নি বা প্রকল্পের কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী চিন্তাভাবনা
হিমাংশুর সংস্থার তরফে ষাটটির বেশি আন্তর্জাতিক পেটেন্ট (IPR) থাকার দাবি করা হয়েছে। যা একটা বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এবার দেখার, বাস্তবে গ্রিন সিমেন্ট বা ডিপ টেক প্রকল্প কত দ্রুত বিপুল পরিমাণে বাজারে আসে।