দেশে সোনার বিনিময়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, গত তিন বছরে সোনার ঋণের পরিমাণ প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে গড় ঋণের অঙ্কও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এখন প্রায় দুই লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চে যেখানে খুচরো ঋণের মোট অংশে সোনার ঋণের ভাগ ছিল প্রায় ৫.৯ শতাংশ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ শতাংশে। ফলে খুচরো ঋণের ক্ষেত্রে এটি এখন অন্যতম বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সোনার ঋণের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, ঋণের অঙ্ক বাড়ছে, আরও বেশি আর্থিক সংস্থা এই ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে এবং নতুন নতুন গ্রাহক এই ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে মহিলা গ্রাহকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগে যেখানে গড়ে একটি ঋণ ছিল প্রায় ১.১ লক্ষ টাকা, তা বেড়ে এখন প্রায় ১.৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ঋণ নেওয়ার সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। সরকারি ব্যাঙ্কগুলির পাশাপাশি অ-ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থাগুলিও এই ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। ফলে সোনার ঋণের বাজার আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তবে এই দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে কিছু উদ্বেগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বেশি অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে অনাদায়ের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে সোনা শুধু গহনা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পদ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার ঋণ সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও নিরাপদ ঋণের একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে।