বর্তমানে সাধারণ মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অনলাইন পেমেন্ট পরিষেবা। ছোট দোকান হোক বা বড় শপিং মল, সর্বত্র গুগল পে(Google pay), ফোন পে(Phonepe), পেটিএম(Paytm) ব্যবহার করা হয়। এবারে সেই পুরো ব্যবস্থাতেই আসতে চলেছে বদল।
ইউপিআই ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বাড়াতে ও নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে ন্যাশানাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া নয়া গাইডলাইন নিয়ে এসেছে। এনসিপিআই এর নতুন নিয়ম অনুসারে সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত ইউপিআই অ্যাপ ও ব্যাঙ্কগুলিকে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করতে হবে। ৪ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইউপিআই দিয়ে টাকা পাঠানোর সময়ে ফোনের পুরো নম্বর আর দেখা যাবে না। কেবল ফোনের শেষ চারটি নম্বর দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কম ফাঁস হবে। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বর থেকে কিউআর কোড ব্যবহার করে ইউপিআই পেমেন্ট করলে দাতা ও গ্রহীতার পুরো মোবাইল নম্বর দেখা যাবে না। এখানেও থাকবে গোপনীয়তা। অচেনা ব্যক্তি বা দোকানে পেমেন্ট করলেও ইউপিআই ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর আড়াল করে দেওয়া হবে। ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের অধীনে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইউপিআই পেমেন্টের সময় মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তারপর অগুনতি অবাঞ্চিত ফোন কল, প্রতারণার চেষ্টা হচ্ছে বলে লাগাতার অভিযোগ পাওয়ার পরই এনপিসিআই-র তরফে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর ফলে মনে করা হচ্ছে অনলাইন স্ক্যাম, ফিসিং এর পরিমাণ অনেকটাই কমবে। স্বস্তি পাবে আমজনতা।
এরই মধ্যে ভারতীয়দের জন্য নতুন পরিষেবা নিয়ে এল গুগল পে। ভারতে গুগল পে ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক পরিষেবা চালু করল গুগল। ‘আস্ক গুগল পে’ নামে এই নতুন ফিচারটি গুগলের জেমিনি মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মাধ্যমে গুগল পে ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র কাকে কত টাকা পাঠিয়েছেন বা কার থেকে কত টাকা পেয়েছেন, সেই তালিকা দেখবেন না। বরং চ্যাটবট আপনাকে জানিয়ে দেবে আপনার কত টাকা খরচ হয়েছে। আপনার খরচের বিশ্লেষণও করে দেবে আপনাকে। নিজের আর্থিক তথ্য এবং বিভিন্ন আর্থিক বিষয় সম্পর্কে সহজ ব্যাখ্যাও জানতে পারবেন।
বর্তমানে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম আসায় একদিকে যেমন মানুষের সুবিধা হয়েছে, তেমনই সামনে এসেছে একাধিক সমস্যা। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে ইউপিআই-এর সহজ লেনদেনের ফলে খরচ বাড়ছে আমজনতার। অনেক ব্যবহারকারীরই বক্তব্য, এটি প্লাস্টিক মানি হওয়ায় বেহিসাবি খরচ বেড়েছে। অনেকের মতে, খরচের বাঁধনকে আলগা করে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে ‘মানি ইউলিশন’ হিসেবেই দেখছেন। যেখানে টাকাকে হাতে ধরা যায় না। তাই খরচের বিষয়ে নজর রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের খরক প্রতিদিন হিসাব করে রাখলে সহজে টাকার উপর নজরদারি চালাতে পারবেন।