২০২৬ সালেই চারটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা প্রস্তুতের দাবি কেন্দ্রের

দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র সরকার। গুজরাতের সানন্দে নতুন সেমিকন্ডাক্টর কারখানা উদ্বোধনের পর কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই দেশে মোট চারটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা প্রস্তুত হয়ে যাবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে আরও দুটি কারখানা চালু হবে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট ২০২৮ সালের মধ্যে ঢোলেরায় তৈরি হবে। এই ঘোষণা দেশের প্রযুক্তি ও শিল্প ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সানন্দের এই নতুন কারখানাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৪ মাসের মধ্যে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে আরেকটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা চালু হয়েছিল। আর জুলাই মাসে তৃতীয় কারখানার উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে গুজরাতের সানন্দে কাইনেস সেমিকনের ওএসএটি কারখানার উদ্বোধনের পর এই রূপরেখা সামনে আনেন বৈষ্ণব। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এর ফলে দেশের তরুণ ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা চিপ তৈরির কাজে যুক্ত হচ্ছেন। দেশে তৈরি নকশা অনুযায়ী চিপ তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। চণ্ডীগড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই চিপ তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বড় উদাহরণ।


বিশ্বের বড় বড় সংস্থাও এখন ভারতে চিপ নকশার কাজ করছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চিপ তৈরির কাজ এখানেই হচ্ছে, যা দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে মান ও খরচ— দুই ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দেশ। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বড় পরিকাঠামো। যন্ত্র, রাসায়নিক, গ্যাস ও পরীক্ষার ব্যবস্থা— সবকিছু মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বলেন, সানন্দ ও ঢোলেরা আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম এই শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি আরও জানান, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুজরাত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এই লক্ষ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা হচ্ছে এবং উন্নত গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগের ফলে গুজরাত শুধু নয়, গোটা দেশই প্রযুক্তি শিল্পে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে জায়গা করে নেবে।