স্মার্টফোনের বাজারে বরাবরই একটু অন্যরকম কিছু নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য পরিচিত অ্যাপল। নতুন আইফোন বাজারে এলেই তা হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন অনুরাগীরা। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও বড় চমক। দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ডেবল ফোনের বাজার দখল করে রেখেছে একাধিক সংস্থা। সেই দুনিয়াতেই এ বার পা রাখল অ্যাপল। সংস্থার প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুয়ো নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নতুন এই ফোনের ২৫৬ জিবি মডেলে রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির মূল পর্দা। সঙ্গে থাকছে ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের পর্দা। ফোনটির কবজা বা ভাঁজের ব্যবস্থার পাশাপাশি ওজন এবং একসঙ্গে একাধিক কাজ করার সুবিধার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থা। বিভিন্ন কোণে ফোনটি ভাঁজ করে ব্যবহার করা যাবে। ফলে একই সময়ে একাধিক কাজ করার সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা।
স্টোরেজের দিক থেকেও থাকছে একাধিক বিকল্প। ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং ২ টেরাবাইট—এই চার ধরনের মডেলে পাওয়া যাবে আইফোন ডুয়ো। রঙের ক্ষেত্রে থাকছে ‘স্টার হোয়াইট’ এবং ‘নাইট স্কাই’—দুটি বিকল্প।
লঞ্চের আগে জল্পনা ছিল, অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোনের দাম ২ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার তুলনায় কিছুটা কম দামেই বাজারে আসছে ফোনটি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম শুরু হচ্ছে ১,৯৯৯ ডলার থেকে। ভারতে আইফোন ডুয়োর দাম শুরু ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা থেকে।
ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে স্যামসাং, হুয়াওয়ের মতো সংস্থার দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে। সেই জায়গায় অ্যাপল নতুন করে প্রবেশ করায় প্রিমিয়াম ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপল-অনুরাগীদের একাংশ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ করেও নতুন প্রযুক্তির এই ফোন কিনতে আগ্রহী বলেই মনে করা হচ্ছে।
অ্যাপলের দাবি, নতুন ফোনটি সংস্থার ব্যবসায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির হিসাব অনুযায়ী, বাজারে আসার প্রথম ১২ মাসে প্রায় ১ কোটি আইফোন ডুয়ো বিক্রি হতে পারে। সেক্ষেত্রে সংস্থার আয় প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান। সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন বিক্রেতা সংস্থার জায়গা আরও শক্ত করতে পারে অ্যাপল।
ভারতে অবশ্য ফোনটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন। ২৩ অক্টোবর থেকে দেশে বিক্রি শুরু হবে আইফোন ডুয়োর। তার আগে ১৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে অ্যাপলের বিভিন্ন বিপণিতে ফোনটির প্রি-বুকিং শুরু হবে।