পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে পড়ছে দেশের বাজারে। তেল, গ্যাস, অটো ভাড়া সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে এই প্রভাব। কিন্তু ডিমের বাজারে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থা। দেশের একাধিক রাজ্যে ডিমের দাম হঠাৎ কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। বড় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন, কারণ গত কয়েক দিনে ডিমের দাম ৭ টাকার কাছাকাছি থেকে কমে মাত্র ৩ টাকায় নেমে এসেছে।
এই দাম হ্রাসের প্রধান কারণ হলো উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতের ডিম রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া। ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটির (এনইসিসি) তথ্য অনুযায়ী, কর্ণাটকে ডিমের দাম গত এক সপ্তাহে ৭.০৬ টাকা থেকে কমে ৪.৬০ টাকা হয়েছে। কর্ণাটক প্রতিদিন ২ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদন করে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে হোসপেট এবং মহীশূর। কিন্তু মহীশূর থেকে নামাক্কলে ৪.৭ লক্ষ ডিম বহনকারী একটি কন্টেইনার রপ্তানির সময় আটকে যাওয়ায় ডিমের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমান রমজান মাসে মুসলিমদের মধ্যে ডিমের ব্যবহার কমে গিয়েছে। তার পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার উৎপাদনের ফলে ডিমের দাম আরও কমেছে। উৎপাদকরা অতিরিক্ত ডিম হিমঘরে সংরক্ষণ করছেন, যা তিন মাস পর্যন্ত রাখা যায়। তেলেঙ্গনাতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দুই মাস আগে যেখানে প্রতিটি ডিমের দাম ৮ টাকা ছিল, তা এখন ৩.৫০–৩.৮০ টাকায় নেমে এসেছে। এই রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডিম উৎপাদিত হয়। বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১৮,৬০০ কোটি টাকার সমান, এবং এটি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ ডিম উৎপাদনকারী রাজ্য। দাম কমার ফলে প্রতিটি ডিমে প্রায় ১.৫০ টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে।
উচ্চ উৎপাদন, কম ব্যবহার এবং রপ্তানি স্থগিত থাকার কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।