দুর্গাপুরে এবারে ৩৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ

প্রায় ৬৭ বছর পর শিল্পনগরী দুর্গাপুরে আসতে চলেছে নতুন ইতিহাস। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীন দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠতে চলা এই মেগা প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের শিল্পোন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিল্প মহলের মতে, নতুন ইউনিট চালু হলে শুধু দুর্গাপুর নয়, গোটা পূর্ব ভারতের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে দেশের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের ইতিহাস ভারতের শিল্পায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্রিটেনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছিল। ১৯৫9 সালে উৎপাদন শুরু করে এটি দেশের প্রথমদিকের সমন্বিত ইস্পাত কারখানাগুলির অন্যতম হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের ভারী শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।


পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে অবস্থিত এই ইস্পাত কারখানা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলির অন্যতম ভরসা। রেল, নির্মাণ এবং প্রকৌশল খাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘাকার ইস্পাত পণ্য উৎপাদনের জন্য কারখানাটি বিশেষভাবে পরিচিত।

বর্তমানে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল, এটি দেশের একমাত্র কারখানা যেখানে রেলওয়ের জন্য ফোর্জড চাকা এবং অ্যাক্সেল তৈরি করা হয়। ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণে এই উৎপাদন কেন্দ্রের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্মাণ পর্যায় থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্ব পর্যন্ত হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিও এর সুফল পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রকল্প দেশের ইস্পাত শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রায় সাত দশক পর দুর্গাপুরে দ্বিতীয় ইস্পাত ইউনিটের সম্ভাবনা শিল্পাঞ্চলের জন্য এক বড় সুখবর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এখন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের রূপরেখার দিকে নজর রয়েছে শিল্পমহল, শ্রমিক সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।