দীর্ঘদিন ধরেই অবসর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশের মধ্যবিত্তের মধ্যে। আয়ু বাড়ার ফলে এখন একজন মানুষ অবসর নেওয়ার পরেও আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর বেঁচে থাকছেন। ফলে শুধু চাকরিজীবন নয়, অবসরের পরের সময়টাকেও আর্থিক ভাবে সুরক্ষিত রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মানুষ এখনও অবসর পরিকল্পনা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন নন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই মনে করেন অবসর জীবনের জন্য পরিকল্পনা করার সময় এখনও অনেক বাকি। এই ভুল ধারণার কারণেই পরবর্তীকালে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। বর্তমানে চিকিৎসা খরচ, দৈনন্দিন ব্যয় এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ দ্রুত বাড়ছে। ফলে শুধু সঞ্চয় থাকলেই হবে না, সেই সঞ্চয়কে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার মতো পরিকল্পনাও প্রয়োজন। ভারতীয়রা যে আগের চেয়ে বেশিদিন বাঁচছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমরা কি তার জন্যে তৈরি? কারণ অবসর জীবন মানে কেবল কর্মজীবন থেকে সরে আসা নয়।
আপনি যখন আর কাজ করছেন না তখনো আয় যেন চালু থাকে, তা নিশ্চিত করা দরকার। আর যত তাড়াতাড়ি এই উপলব্ধিকে আপনি কাজে লাগাতে পারবেন, আপনার দ্বিতীয় ইনিংস তত নিশ্চয়তা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাটবে। মধ্যবিত্তের এই চিন্তা মাথায় রেখে এসবিআই লাইফ – স্মার্ট অ্যানুইটি প্লাস আনা হয়েছে। এতে একজন ব্যক্তি নিজের সঞ্চয়কে গ্যারান্টিযুক্ত নিয়মিত আয়ে পরিণত করতে পারেন, পাশাপাশি কবে এবং কীভাবে সেই আয় শুরু হবে সে ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন স্বাধীনভাবে। একটা নন-লিংকড, নন-পার্টিসিপেটিং জেনারেল অ্যানুইটি প্রোডাক্ট হিসাবে এই প্ল্যান তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত, দুই ধরনের আয়ের উৎস।
অর্থনৈতিক পরামর্শদাতাদের বক্তব্য, কর্মজীবনের শুরু থেকেই নিয়মিত বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। ছোট অঙ্ক দিয়ে শুরু করলেও দীর্ঘ সময়ে তা বড় তহবিলে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে ঝুঁকি ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রেখে বিনিয়োগ বেছে নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। শুধু স্থায়ী আমানত বা সোনা নয়, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প এবং অবসরভাতা নির্ভর পরিকল্পনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিবারের উপর নির্ভর না করে নিজের অবসর জীবনকে স্বনির্ভর করে তোলাই এখন সময়ের দাবি।