সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেই দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মী ও অফিসারদের সাতটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’। এমনিতেই সপ্তাহের দ্বিতীয় শনিবার ও রবিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। তার সঙ্গে শুক্রবারের ধর্মঘট যুক্ত হওয়ায় চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই প্রতি সপ্তাহে দু’দিন ছুটি, কাজের ভিত্তিতে উৎসাহ ভাতা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন-সহ একাধিক দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলি। গত ৬ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসে ইউএফবিইউ। সেখানেই ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের দাবি, সরকারি ব্যাঙ্কের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়বে। ফলে ব্যাঙ্ক পরিষেবার পাশাপাশি এটিএম পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে ইউএফবিইউ। সংগঠনের অভিযোগ, দাবিগুলি নিয়ে কেন্দ্রের মনোভাব ইতিবাচক নয়। সেই কারণেই ধর্মঘটের পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মী ও অফিসাররা।
ইউএফবিইউ-র অন্যতম প্রধান দাবি, পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা। সংগঠনের বক্তব্য, ২০২৪ সালে এ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কাজের সময় প্রতিদিন ৪০ মিনিট করে বাড়ানোর বিনিময়ে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন কর্মীরা। চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকে পাঠানো হলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।
এর পাশাপাশি কাজের ভিত্তিতে উৎসাহ ভাতা দেওয়ার বর্তমান পদ্ধতিতেও বদল চেয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি। বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ় অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাজেন নাগরের দাবি, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক কর্মী বঞ্চিত হতে পারেন। যদিও উৎসাহ ভাতা সংক্রান্ত ওই ব্যবস্থা আপাতত স্থগিত রেখেছে কেন্দ্র।
শুক্রবার কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই আশাবাদী রাজেন নাগ। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের স্বার্থে দীর্ঘদিনের দাবিগুলি দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।
তবে ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটেই শেষ নয়। দাবিদাওয়া পূরণ না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউএফবিইউ। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ফের ধর্মঘট হবে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাতেও কেন্দ্র দাবি না মানলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি।