আম্বানি, বিড়লা বা জিন্দালদের মতো দেশের ১০ ব্যবসায়ী পরিবারের সম্পদ সৌদি আরবের GDP-র থেকে বেশি, চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

ভারতের ধনীতম পরিবার আম্বানিরা (ANI)

দেশের সবচেয়ে ধনী পারিবারিক ব্যবসার তালিকায় ফের এক নম্বরে মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) পরিবার। পরপর তিন বছর ধরে এই জায়গা ধরে রেখেছে আম্বানিরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘২০২৬ বার্কলেজ প্রাইভেট ক্লায়েন্টস হুরুন ইন্ডিয়া মোস্ট ভ্যালুয়েবল ফ্যামিলি বিজ়নেসেস লিস্ট’ (Barclays Private Clients Hurun India Most Valuable Family Businesses List) অনুযায়ী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) বর্তমান মূল্য প্রায় ২৫.৮ লক্ষ কোটি টাকা।

তবে চমকের বিষয় হল, গত এক বছরে আম্বানি পরিবারের সম্পদের পরিমাণ কমেছে প্রায় সাড়ে আট শতাংশ। তা সত্ত্বেও প্রতিযোগীরা ধারেকাছেও কেউ নেই। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা কুমার মঙ্গলম বিড়লার (Kumar Mangalam Birla) আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর (Aditya Birla Group) সম্পদের প্রায় তিন গুণ রয়েছে রিলায়েন্সের হাতে।

শীর্ষ পাঁচে কারা


তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী, যার মূল্য আপাতত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮.১৪ লক্ষ কোটি টাকা। গত এক বছরে এই গোষ্ঠীর সম্পদ বেড়েছে ২৬ শতাংশ, যা শীর্ষ পাঁচের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি। তৃতীয় স্থানে সজ্জন জিন্দালের (Sajjan Jindal) নেতৃত্বাধীন জিন্দাল পরিবার, জেএসডব্লু স্টিলের (JSW Steel) হাত ধরে যাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকা। এর পরে রয়েছে বাজাজ এবং মাহিন্দ্রা পরিবার।

প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে গৌতম আদানির (Gautam Adani) পরিবার, যাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯.৬ লক্ষ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে ভারতী এয়ারটেলের (Bharti Airtel) সুনীল ভারতী মিত্তল, যাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২.১ লক্ষ কোটি টাকা।

সামগ্রিক ছবিটা কেমন

শুধু শীর্ষ পাঁচ নয়, গোটা তালিকাটাই এ বার আরও বড় হয়েছে। দেশের সেরা ৩০০ পারিবারিক ব্যবসার সম্মিলিত মূল্য এখন প্রায় ১৩৮ লক্ষ কোটি টাকা, ডলারের নিরিখে যা প্রায় ১.৪৬ ট্রিলিয়ন। এই অঙ্কটা বিশ্বের ১৮তম বৃহত্তম অর্থনীতির সমান, নেদারল্যান্ডস কিংবা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি।

গত দুই বছরে এই পরিবারগুলির সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা। হিসেব করলে দাঁড়ায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা যোগ হয়েছে এই তালিকাভুক্ত পরিবারগুলির সম্পদে। ২০২৪ সালের তুলনায় সামগ্রিক বৃদ্ধির হার সাড়ে সাতাশ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে নিফটি ফিফটি (Nifty 50) কমেছে সোয়া এক শতাংশ, আর সেনসেক্স (Sensex) পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। অর্থাৎ শেয়ার বাজারের ওঠাপড়াকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে পারিবারিক ব্যবসাগুলি।

বাংলার নামও রয়েছে

এই বিপুল তালিকায় কলকাতার নামও উজ্জ্বল। শহরের শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার (Sanjiv Goenka) নেতৃত্বাধীন আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী (RP-Sanjiv Goenka Group) দেশের অন্যতম পুরনো পারিবারিক ব্যবসার নাম হিসেবে বারবার উঠে এসেছে এই ধরনের তালিকায়। বিদ্যুৎ থেকে খুচরো ব্যবসা, সংবাদমাধ্যম থেকে ক্রীড়া, একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে থাকা এই গোষ্ঠীর সদর দপ্তর খাস কলকাতায়। পূর্ব ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের কর্পোরেট মানচিত্রে বাংলার এই উপস্থিতি নিঃসন্দেহে গর্বের।

সব মিলিয়ে হুরুন ইন্ডিয়ার এই রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের পারিবারিক ব্যবসাগুলি শুধু বড় হচ্ছে না, তাদের বিস্তারও হচ্ছে আরও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। পুরনো শিল্পগোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি প্রথম প্রজন্মের উদ্যোগপতিরাও ক্রমশ প্রতিষ্ঠিত জায়গা করে নিচ্ছেন দেশের অর্থনীতির মানচিত্রে।