ধুতরো বিক্রির অভিযোগে অ্যামাজন-ইনস্টামার্ট ও বিগবাস্কেটের খাদ্য লাইসেন্স স্থগিত

Photo: X

বিষাক্ত ধুতরো ফল ও বীজকে মানুষের খাবার হিসেবে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল কর্ণাটক সরকার। রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা ও ঔষধ প্রশাসন বিভাগ বা কেএফএসডিএ অ্যামাজন, সুইগি ইনস্টামার্ট এবং বিগবাস্কেটের খাদ্য লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই প্ল্যাটফর্মগুলিতে ধুতরো ফল ও বীজের যাবতীয় অনলাইন তালিকা এবং বিজ্ঞাপন অবিলম্বে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

কেএফএসডিএর কমিশনার শ্রীনিবাস কে-র জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ধুতরো ফল বা বীজ কোনওভাবেই খাদ্যপণ্য হিসেবে বিক্রি, মজুত বা বিতরণ করা যাবে না। ২০০৬ সালের খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণমান আইন এবং ২০১১ সালের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিভাগীয় তদন্তে দেখা যায়, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ধুতরো ফল ও বীজ মানুষের খাওয়ার জন্য বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকি কিছু প্যাকেটে এফএসএসএআইয়ের লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরও ব্যবহার করা হয়েছিল। গুদামে ওই পণ্য মজুত রেখে অনলাইনে বিক্রির জন্য দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে কেএফএসডিএ।


কর্তৃপক্ষের সামনে সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা হাজির হলেও তাঁদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কেএফএসডিএ। অ্যামাজনের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। ইনস্টামার্ট জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছে। বিগবাস্কেট জানিয়েছে, তারা ধুতরো ফলের অনলাইন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্যাকেটে স্পষ্ট করে ‘মানুষের খাওয়ার জন্য নয়’ লেখা থাকবে। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছে কেএফএসডিএ।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৩ সংস্থার খাদ্য লাইসেন্স স্থগিত থাকবে। সংস্থাগুলি জবাব দেওয়ার পর শুনানি হবে। তারপরেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ধুতরো সরবরাহকারী বিক্রেতা ও সংস্থাগুলির খাদ্য লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশনও স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই ওই পণ্য আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতে না পারে।

ধুতরো দেখতে আকর্ষণীয় হলেও অত্যন্ত বিষাক্ত। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার প্রচলিত থাকলেও মানুষের খাওয়ার জন্য এটি নিরাপদ নয়। গাছটির ফল, বীজ, পাতা, ফুল এবং শিকড়— সব কিছুতেই বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। ধুতরোয় থাকা অ্যাট্রোপিন ও স্কোপোলামিন স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করতে পারে।

বিষক্রিয়ার ফলে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, হ্যালুসিনেশন, চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে খিঁচুনি, অচেতন হয়ে পড়া এবং প্রাণসংশয়ও হতে পারে। এই কারণে ধুতরো ফল ও বীজ শিশু এবং পোষ্যদের থেকেও দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।