এবারে চাষাবাদে নজর আদানির

আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম  আদানির অন্যতম সংস্থা Adani Ports and Special Economic Zone (এপিএসইজেড) বড়সড় একটি অধিগ্রহণের ঘোষণা করেছে। সংস্থার তরফে জানা গিয়েছে, তারা দেউলিয়া নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Jaypee Fertilisers & Industries Ltd (জেএফআইএল)-এর ১০০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। এই অধিগ্রহণের মূল্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)-র অনুমোদিত ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রক্রিয়ার অধীনে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া নথিতে এপিএসইজেড জানিয়েছে, তারা Jaiprakash Associates-এর কাছ থেকে শেয়ার ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে এই অধিগ্রহণ করছে এবং পুরো লেনদেন নগদ অর্থে সম্পন্ন হবে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত জেএফআইএল মূলত সার ও রাসায়নিক সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও সংস্থাটির বিভিন্ন গ্রুপ কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জয়প্রকাশ উত্তর ভারত বিকাশ প্রাইভেট লিমিটেড এবং কেএফসিএল।

জেএফআইএল-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হল Kanpur Fertilisers and Chemicals Ltd (কেএফসিএল)-এ তাদের মালিকানা। কেএফসিএল-এর অধীনে কানপুরে প্রায় ২৪৩ একর শিল্প ও বাণিজ্যিক জমি রয়েছে। আদানি পোর্টসের মতে, এই জমি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে বৃহৎ আকারের লজিস্টিক পার্ক ও ওয়্যারহাউস গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।


সংস্থার বক্তব্য, উত্তর ভারতে তাদের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ। আদানি পোর্টস আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে তাদের মাল্টিমোডাল লজিস্টিক পার্ক (এমএমএলপি) নেটওয়ার্ক ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬-এ নিয়ে যেতে চায়। একইসঙ্গে সংস্থাটি তাদের গুদামজাতকরণ ক্ষমতাও প্রায় চারগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে মনে করা হচ্ছে ধীরে ধীরে চাষের জগতেও এবারে নিজের পা শক্ত করতে চলেছেন গৌতম আদানি।

এই চুক্তি আসলে আদানি এন্টারপ্রাইজের তরফে জমা দেওয়া জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটসের রেজোলিউশন প্ল্যানের অংশ। এলাহাবাদ বেঞ্চের এনসিএলটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয়। পরে মে মাসে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলএটি) সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, জয়প্রকাশ অ্যাসোসিয়েটসের ঋণদাতারা বেদান্তের তুলনায় কম অঙ্কের প্রস্তাব হওয়া সত্ত্বেও আদানি গোষ্ঠীর ১৪,৫৩৫ কোটি টাকার রেজোলিউশন প্ল্যান অনুমোদন করেছিলেন। এপিএসইজেড আরও জানিয়েছে, এই অধিগ্রহণের জন্য তারা ২০২৫ সালের অগস্ট মাসেই প্রতিযোগিতা কমিশন অফ ইন্ডিয়া (সিসিআই)-র অনুমোদন পেয়ে গিয়েছিল।