ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কায় চাঙ্গা বিশ্ববাজার, একদিনে ৮ লক্ষ কোটি টাকা লাভ বিনিয়োগকারীদের

ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কায় চাঙ্গা বিশ্ববাজার, একদিনে ৮ লক্ষ কোটি টাকা লাভ বিনিয়োগকারীদের(ai)

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধাক্কা খাওয়ার প্রভাব পড়ল বিশ্ব অর্থনীতিতে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজার। বুধবার ভারতের বাজারেও তার প্রভাব দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও জোরালো হল। বাজার খোলার পরই এক ধাক্কায় প্রায় ১,৩০০ পয়েন্ট বেড়ে যায় সেনসেক্স। পরে সূচকের বৃদ্ধি ২,০০০ পয়েন্টের গণ্ডিও ছাড়িয়ে যায়। নিফটিও প্রায় ৩০০ পয়েন্ট ঊর্ধ্বমুখী হয়। দিনের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা।

বুধবার ৩৮৩.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩০১.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল সেনসেক্স। বৃহস্পতিবার বাজার খোলার পর থেকেই কেনার প্রবণতা দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সূচক। বাজারের অধিকাংশ সংস্থার শেয়ারই এদিন লাভের মুখ দেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার নির্বাচনের ফল ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।

শেয়ার বাজারের পাশাপাশি কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় মুদ্রাও। বুধবারের তুলনায় ডলারের নিরিখে টাকার দাম ২৯ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৪.৩৬ টাকা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যারেলপিছু তেলের দাম একসময় ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছিল। বৃহস্পতিবার তা নেমে এসেছে ৯৪ ডলারে।


ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কার পর আমেরিকা ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারে বলে আশা করছে বাণিজ্যমহল। সেই সম্ভাবনাতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের কাছে এই দরপতন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তেলের দাম কমলে আমদানি খরচ এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলানো সহজ হতে পারে।

এদিকে, আমেরিকার শেয়ার বাজারেও বুধবার উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গিয়েছে। গত তিন মাসের মধ্যে এদিনই বাজারের সবচেয়ে বড় উন্নতি হয়েছে বলে পরিসংখ্যানের দাবি। সেই ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও। যদিও মঙ্গলবার থেকেই দেশের শেয়ার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।

শেয়ার বাজারের পাশাপাশি কিছুটা কমেছে সোনার দামও। ফলে ধনতেরাসের আগে বাজারের এই পরিস্থিতি সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর।