পলিমার নোট চালু করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে আনা হতে পারে ১০ ও ২০ টাকার মোট ১ বিলিয়ন পলিমার ব্যাঙ্কনোট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) এ বিষয়ে কেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
সরকার জানিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে ১০০ কোটি করে ১০ ও ২০ টাকা মূল্যের পলিমার নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই নোট বাজারে ছাড়া হবে। পরীক্ষা সফল হলে নিয়মিতভাবে তা বাজারে ছাড়া হবে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি দফায় দফায় আলোচনা করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ড। এরপরই সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সংসদে সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এই বিষয়ে বলেন, “সরকারের তরফে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চালু থাকবে পলিমার নোট।”
তবে অর্থমন্ত্রী এ-ও জানান, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এখনই এই নোট তৈরির খরচ নির্ধারণ করা কঠিন।
পলিমার নোট বাজারে আনার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। গত ৫ আগস্ট এই ইস্যুতে মুখ খোলেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি বলেন, এই ধরনের নোট কাগজের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। কিছু দেশে পলিমার নোট ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কোনও বড় সমস্যা হয়নি বলেও জানান তিনি।
আরবিআই গভর্নর বলেন, “নোট তৈরির জন্য বিশেষ পলিমারের টেন্ডার ডাকা হয়েছে ইতিমধ্যেই। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে তা চালানো হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। যদি সমস্ত পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোয়, তবে আমাদের লক্ষ্য আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই এই নোটগুলি বাজারে ছাড়া।”
সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, প্লাস্টিকের নোট চালুর পিছনে মূলত দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, এই নোট বহু বছর ব্যবহার করা যায় এবং সহজে নষ্ট হয় না। কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট প্রায় চার গুণ বেশি টেকসই। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের নোট তৈরির খরচ কাগজের নোটের তুলনায় কম হতে পারে। টেকসই হওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে নোট তৈরির খরচও কমবে বলে মনে করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
উল্লেখ্য, পলিমার নোট প্লাস্টিকের মতো একটি বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপাদান দিয়ে তৈরি। নোট ছাপানোর জন্য শক্তিশালী ও নমনীয় প্লাস্টিক ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। ফলে কাগজের তুলনায় এগুলি অনেক বেশি টেকসই এবং সহজে নষ্ট হয় না। ১০ ও ২০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে এই দুই মূল্যের নোটই পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে ছাড়া হবে। প্রয়োগ সফল হলে পরবর্তী সময়ে পলিমার নোটের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।
ভারতে অবশ্য পলিমার নোট চালুর চেষ্টা এই প্রথম নয়। ২০১২ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে পাঁচটি শহরে ১০ টাকার পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন এটিএম ও নোট প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এবার প্রযুক্তিগত বাধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে সরকার।
বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে বর্তমানে পলিমার নোট ব্যবহার করা হয়। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই ধরনের নোট চালু করে। পরে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কানাডা এবং রোমানিয়ার মতো দেশও সেই পথে হেঁটেছে। এবার সেই তালিকায় ভারতের নামও যুক্ত হতে পারে।