রাজ্যপালের ভূমিকায় তৃণমূলের ক্ষোভ রাজ্যসভায়

রাজ্যপালের ভূমিকায় তৃণমূলের ক্ষোভ রাজ্যসভায়

দিল্লি- সরকারের প্রশাসনিক কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করছেন রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠি। এই অভিযোগ তুলে আজ রাজ্যসভায় তুমুল বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল।

এই বিক্ষোভের জেরে মুলতুবি হয়ে গেল রাজ্যসভার অধিবেশন। অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন উঠে দাঁড়িয়ে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আলোচনার জন্য রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

উত্তরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম বেঙ্কাইয়া নাইডু জানান, তৃণমূল কংগ্রেস, আকালি দল ও তেলেগু দেশম দলগুলির থেকেও তিনি অধিবেশন মুলতুবির প্রস্তাব পেয়েছেন। যদিও তিনি প্রস্তাবগুলি খারিজ করেন।


চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডেরেক ও ব্রায়েন এবং অন্যান্য সাংসদরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। প্রতিবাদী সাংসদদের বেঙ্কাইয়া বলেন, অন্য কোনোভাবে নির্দেশ পাঠাতে হবে।

এরপরই তিনি অধিবেশন জিরো আওয়ারে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতে বিক্ষোভের সুর আরও চড়তে শুরু করে। এর পরেই অধিবেশন মুলতুবি রাখার সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান।

বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী বলান, রাজ্যপাল আমাদের সাংবিধানিক প্রধান। সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তাঁকে আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি। রাজ্যপালিকে এমন কিছু করা উচির নয়, যাতে তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

সম্মিলিত এই প্রতিবাদে সামিল হন কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং সিপিআই’ও। বিরোধীদের এই সম্মিলিত প্রতিবাদ শাসকদলকে বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। তার আগে বিভিন্ন ইস্যুতে পিছু হটতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় শাসক দল।

রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাবার পর বিরোধীরা একজোট হয়ে বৈঠক করেন। তাঁরা সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনোমতেই বিক্ষোভের রাস্তা থেকে পিছু হটবেন না। যতক্ষণ না এবষয়ে রাজ্যসভায় তাদের বলতে দেওয়া হবে ততক্ষণ প্রতিবাদ চলবে।

রাজ্যসভায় পরিষদীয় দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, “এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ দরকার। সেই প্রতিবাদের জন্যই বিরোধীরা সকলে এক হতে পেরেছি”। ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, এই সরকার নানা উপায়ে রাজ্য সরকারের কাজে মাথা গলাচ্ছে। যে যে রাজ্যে অ-বিজেপি সরকার সেখানেই এমন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করছে।