ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে রবিবার সকাল থেকেই বাংলা জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গণনার ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ দফা গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি প্রায় ৭৬ হাজার ৩৯৭ ভোটে এগিয়ে আছেন বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৭৩ ভোট।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দাবি করেছেন, ফলতার পুনর্নির্বাচনের ট্রেন্ড দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটারদের মানসিকতার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক্স-এ তিনি লেখেন, “ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, মানুষের মনোভাব বদলাচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক জমিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।”
ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “মানুষ আমাদের উপর যে আস্থা ও সমর্থন দেখিয়েছেন, তাতে আমরা অভিভূত। এই সমর্থন আমাদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। শান্তি, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং সমৃদ্ধ বাংলার লক্ষ্যে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এদিকে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষও ফলতার ভোট নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, অতীতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছিল, কিন্তু এবার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “আগের ভোটে কারচুপি হয়েছে। এবার মানুষ নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দিচ্ছেন, তাই প্রকৃত জনমত সামনে আসছে।”
একই সঙ্গে এজেইউপি প্রধান হুমায়ুন কবীরকে উদ্দেশ্য করে কেয়া ঘোষ বলেন, “কোনওরকম উস্কানিমূলক মন্তব্য করবেন না, যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনকে সম্মান করতে শিখুন।”
উল্লেখ্য, ২১ মে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৬০.৪৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে প্রথমবার রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলতার এই পুনর্নির্বাচনের ফল তাই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।